logo ০৪ এপ্রিল ২০২৫
লেখালেখি মানুষকে ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায় : উৎপল শুভ্র
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:৩৭:২৯
image



ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্য থেকে একজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, তিনি কে? উৎপল শুভ্রর জন্ম না হলে এই প্রশ্নটা নিশ্চয়ই ভাবাতো, দু-চারজনের ছোট একটা তালিকা হতে পারত। সাবলীল উপস্থাপনা, জাদুকরী লেখনী, স্বকীয়তা আর নির্ভীক সাংবাদিকতা দিয়ে তিনি নিজেকে অভাবনীয় এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যার ধারেকাছে নেই অন্য কেউ। ক্রীড়া সাংবাদিকতা যদি সাহিত্য হয়, উৎপল শুভ্র তবে হুমায়ূন আহমেদ। আলাপচারিতার প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন






সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। একজন প্রকৌশলীর জন্য তো সেটা আরো ঝুঁকির। এতটা সাহস আর আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলেন কোত্থেকে?






আমি যে প্রকৌশলী কথাটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আসলে আমার নিজেরও এটা মনে থাকে না। কথাটা শুনে আমি চমকে গেছি। কারণ অনেক আগের কথা তো। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি সেই ২৭ বছর আগে। আমি আসলে খুব ভেবেচিন্তে এ পেশায় আসিনি। সত্যি কথা হলো, শুধু এই পেশায় নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই মনে যেটা চেয়েছি সেটাই করেছি। একটা হলো ব্রেইন দিয়ে পরিচালিত হওয়া, অন্যটা হার্ট দিয়ে। আমি সবসময় হার্ট দিয়ে পরিচালিত হয়েছি, ব্রেইন দিয়ে নয়। সবখানেই হার্ট দিয়ে দিয়েছি। আরও অনেক ব্যাপার আছে যেগুলো বলার মতো নয়, যেগুলো হয়ত সমাজ পারমিট করে না এবং সেভাবে প্রচলিত নয়। কিন্তু আমার কাছে যেটা ঠিক মনে হয়েছে, আমি সেটাও করেছি। সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে নেওয়ার লক্ষ্য আমার ছিল না কখনোই। ছাত্রজীবন থেকে আমি খেলাধুলা নিয়ে লেখালেখি করতাম। ঢাকায় বেশির ভাগ পত্রিকা-ম্যাগাজিনে তখন লেখা পাঠাতাম। তারা আমার চেহারা না দেখলেও; লেখা নিয়মিত ছাপা হতো ঢাকার অধিকাংশ পত্রিকায়। তবে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার তেমন কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু ঘটনাচক্রে অনেক জিনিস একসঙ্গে মিলে গিয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলাম, চাকরি করলাম ছয়-সাত মাসের মতো। বাজারে আজকের কাগজ এলো। কিছু ছেলেমেয়ে ওখানে এলো, যাদের সাংবাদিকতার ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। তখন মনে হলো সাংবাদিকতা পেশা অন্যভাবে নেওয়া যায়। চাকরি ছেড়ে সেখানে যোগ দিলাম। আজকের কাগজ ছিল নতুন ধারার একটি পত্রিকা। তখনও আমার পরিকল্পনা ছিল যে, কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার। অবশ্য ওখানে কিছুটা ভালোও লেগে গেল। বছরখানেক একটু সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম। একটা চাকরির ইন্টারভিউও দিয়েছিলাম। ইন্টারভিউ ভালো হয়েছিল, চাকরিটা হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানলাম, অন্য আরেকজন অনেক টাকা-পয়সা দিয়ে চাকরিটা নিয়ে নিয়েছে। এরপর ভোরের কাগজে এলাম। সব মিলিয়ে দৈনিক পত্রিকায় তো ২৫ বছর হয়ে গেল।






কিসের টানে সাংবাদিকতা শেষ পর্যন্ত ছাড়া হলো না?






ভালো লেগে যাওয়ার বিষয়টা তো আছেই। যদিও সাংবাদিকতায় এখন আগের চেয়ে টাকা-পয়সা বেশি। তবে নিরাপত্তাটা যে খুব ভালো, তা বলব না। কারণ দু-চারটা মিডিয়া হাউস বাদ দিলে বাকিগুলো খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। কিন্তু আমরা সে সময়টায় খুব ইনজয় করেছি। আমাদের জীবনে তখন বিকাল ছিল, সন্ধ্যা ছিল। আমরা আড্ডা দিয়ে, শাহবাগ, বইমেলা ঘুরে তারপর অফিসে যেতাম রাতে। এখনকার বিবাহিত জীবন হলে অবশ্য ক্ষতির কারণ হতো। কারণ কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে আজান দিয়ে দিত। একটা ব্যাপার হলো, সাংবাদিকতা আমার কাছে কখনোই কাজ মনে হয়নি। দেখেন, পৃথিবীতে ৯৯ শতাংশ লোক কাজ করেন। কাজ উপভোগ করেন কি না এমন প্রশ্ন করলে তারা হাসবে। বলবে, কাজ আবার উপভোগ করার কী আছে! এই জায়গায় আমরা আসলে ভাগ্যবান। আমরা এমন পেশায় আছি, যেখানে কাজও উপভোগ করা যায়। এখনকার সাংবাদিকতায় অনেক চাপ। জীবন থেকে প্রতিদিন ৭, ৮, ৯ ঘণ্টা দিয়ে দিচ্ছি অফিসের কাজে। কিন্তু বলতে পারি, আমার ক্যারিয়ারের ৯০ শতাংশ সময়ই আমি উপভোগ করেছি। এ পেশায় থাকার ইচ্ছা আমার আদৌ ছিল না। কিন্তু এখানে এসে যা করেছি এবং যা পেয়েছি তা তুলনাহীন। সারা পৃথিবী দেখেছি। আমি তৃপ্ত।






দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুধু নয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসের সেরাদের ছোট্ট একটা তালিকা করলে আপনি ওপরের দিকেই থাকবেন। তারপরও কখনো কি মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় থাকলেই বরং ভালো হতো, অন্তত অভিমান করে হলেও?






না, এমন কিছু মনে হয়নি। ২৭ বছর আগে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি। ইঞ্জিনিয়ারদের সমাজে সম্মানজনক অবস্থান। বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই এখন এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। সমাজে তারা প্রতিষ্ঠিত। তবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বলুন বা অন্য দিক দিয়ে বলুন আমিও ভালো আছি। আমার কোনো অনুশোচনা নেই। জীবনে যা পেয়েছি তার তুলনা নেই। এত কিছু পাব ভাবিওনি।






দেশের স্পোর্টস সাংবাদিকতায় নতুন ধারার প্রবর্তক আপনি। আপনার এ ধারা তুমুল জনপ্রিয়তা পেল। আপনি সেলিব্রেটি হলেন। ভালো লাগে নিশ্চয়ই। কিন্তু সব অর্জনের পেছনেই তো অনেক কষ্ট, ত্যাগ, সাধনা থাকে।






এটা তো আসলে খারাপ লাগার কোনো কারণ নেই। সত্যিকার অর্থে যেটা বললাম, এ পেশায় ভেবেচিন্তে আসিনি। আর ওই যে ভিন্ন ধারার কথা বললেন, এটাও যে খুব ভেবেচিন্তে করেছি, তা নয়। আমি প্রচুর সাহিত্য পড়তাম। এখনো পড়ি। ভাষার যে ব্যাপারটা, সেটা আমার মধ্যে অটোমেটিক ছিল। এটা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছা যেহেতু ছিল না, তাই আমার মধ্যে আলাদা একটা সাহস ছিল। এটা হয় না, ওটা হয় না, এই নিয়ম আমার কাছে পাত্তা পায়নি। শুরুর দিকে আমার মনে আছে, প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। আমি সাংবাদিকতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। কিছুই হচ্ছে না। আপনি যেমন বলেছেন আমার প্রচুর ভক্ত আছে, এটা যেমন ঠিক, আবার অনেক সমালোচকও আছে। এখনো অনেকে বলেন, আমি সাংবাদিকতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। কিন্তু এতে আমি কিছু মনে করি না। আমি জানি, আপনি যখন আলাদা কিছু করতে যাবেন, অনেকের কাছে সেটাই নেগেটিভ। আসলে নতুন কিছু করতে গেলে কারো কাছে ভালো লাগবে, কারো খারাপ লাগবে। আপনি যদি সাধারণ, সাদামাটা জিনিস করেন, যেমন গরু ঘাস ঘায়, তাতে কোনো আলোচনাও হবে না, সমালোচনাও হবে না। কিন্তু যখন আপনি ইম্পপ্রোভাইজ করতে যাবেন তখনই নানা সমস্যা। কিন্তু আমি এগুলো বড় করে দেখিনি। এটাই আমার পেশা, এটাই আমার স্বপ্ন, এটা নিয়েই বড় হতে হবে, এগুলো লম্বা সময় ধরে চিন্তা করিনি। আমি প্রচুর পড়াশোনা করেছি, তাই পাঠক হিসেবে আমার মন যেটা চেয়েছে, সেটাই করেছি। ছোটবেলা থেকেই আমার মধ্যে প্রচণ্ড পড়ার নেশা ছিল। শুধু খেলাধুলার লেখাই নয়, হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে মাসুদ রানা, মোট কথা ছাপা অক্ষর হলেই হলো। আমি জাগ্রত আছি আর লেখা পড়ছি না, এমন ঘটনা বোধকরি নেই।






কিন্তু কী কারণে যে খেলার নেশাটা আমার মাথার মধ্যে ঢুকলো আমার জানা নেই। এটা বিস্ময়কর ঘটনা। আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীতেও খেলাধুলার ইতিহাস নেই। যখন শুরু করেছি, একজন পাঠক হিসেবে যেভাবে পড়তে চেয়েছি সেভাবেই করেছি। যে কারণে আমি করতে পেরেছি। এই ভয়টা ছিল না যে, না পারল যে চাকরি চলে যাবে বা এখানে থাকা যাবে না। কারণ আমি পেশা হিসেবেই তখনও এটাকে নিইনি।












 






 






প্রত্যেকের ক্যারিয়ারে কারো না কারো প্রভাব, প্রেরণা থাকে। আপনার কে ছিল?






আসলে ওভাবে স্পষ্ট করে বলা কঠিন। আমি প্রচুর পড়ি। আমার এমন কোনো সপ্তাহ যায় না যে, না পড়ে। পড়ে মনও খারাপ হয়। মনে হয়, তারা কী লেখে, আর আমরা কী লিখি। এটা আমার প্রতিনিয়তই মনে হয়। সত্যি কথা বলতে কি, এগুলো বেশিরভাগই দেশের বাইরের লেখা। আবার আমার লেখা পড়ে যদি কারো ভালো লাগে তখন আমার কাছেও ভালো লাগে। একদম স্পষ্ট করে কাউকে বলতে পারব না যে, উনি আমার প্রেরণা। ওনার লেখায় আমি প্রভাবিত হয়েছি। অনেকের লেখাই আমার ভালো লাগে। বাংলাদেশের জালাল আহমেদ চৌধুরীর লেখা আমার খুব ভালো লাগে, পছন্দ করি। একসময় ফরহাদ টিটো ছিলেন, যার সঙ্গে আমি জয়েন্টলি শুরু করেছিলাম। আমরা দুজন মিলেই সাংবাদিকতার পরিবর্তনটা করেছি।  শুনলে ঔদ্ধত্যই শুনাবে যে, নির্দিষ্ট কারো দ্বারা আমি প্রভাবিত হইনি। ২৫ বছর পর এসে বলতে পারি, আমি আমার মতো করে করছি। কিন্তু এটা এমন নয় যে, হ্যাঁ, আমি বিরাট কনফিডেন্ট, আমিই ঠিক, আমি এই পথেই যাব, কারো দ্বারা প্রভাবিত হব না, এই চিন্তা থেকে অবশ্য করিনি। আমি আমার মতো করে করেছি। ভারতের গৌতম ভট্টাচার্যের লেখা আমার ভালো লাগে। আবার কিছু বিষয়ে তার সঙ্গে আপত্তিও আছে। ওনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু একক কোনো ব্যক্তি নেই বা ছিল না, যার প্রভাব আমাকে প্রভাবিত করেছে বা আদর্শ ছিল।






আপনাকে আইডল মেনে অনেকেই বড় ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন। আপনার শিষ্যদের মধ্যে আবার অনেকে অনেক ওপরেও চলে গেছেন। তাদের মধ্যে কে আপনাকে বেশি মুগ্ধ করে?






নির্দিষ্ট কারো নাম না বলি। কিন্তু বিষয়টা এমন নয় যে, নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য বলছি। আমার এখানে প্রায় ৬০-৭০ জন কাজ করেছে। সবার সঙ্গে যে খুব শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদ হয়েছে, তা নয়। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্কের টানাপড়েন থাকেই, এটাই স্বাভাবিক। দায়িত্বের সঙ্গে অনেক অপ্রিয় বিষয়ও থাকে। অনেকের সঙ্গে বয়সের ব্যবধানও তেমন ছিল না। কিন্তু আমি যদি ফ্রাঙ্কলি বলি, তাহলে প্রায় সবার জন্যই সন্তানসুলভ স্নেহ আমার মধ্যে কাজ করে সবসময়। ন্যাচারালি কেউ ভালো, কেউ খারাপ সেটাও বলি না। যেমন মোস্তফা মামুন, খুব ছোটবেলায় আমার এখানে এসেছে, ইউনিভার্সিটিতে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে তখন। আমার এখানেই সে বড় হয়েছে। সে একটি পত্রিকায় বড় পজিশনে আছে। প্রাসঙ্গিক বলে এর নাম বললাম। ওদের কথা মনে হলেই আমার মনটা স্নেহে ভরে ওঠে। আমার এখান থেকে কাজ করে অনেকেই স্পোর্টস এডিটর হয়েছে। আবার এখান থেকে চলে গিয়ে আমার নামে আজেবাজে কথাও বলেছে, এমনও আছে। আমি মনে করি, এটাই নিয়তি। এটা হওয়াই স্বাভাবিক। আমি এতে কিছু মনে করি না। তাদের জন্যও আমার মধ্যে স্নেহ কাজ করে।






আপনি ক্রীড়া সম্পাদক, মানে বস হিসেবে আপনি কেমন? আপনার সঙ্গে যারা কাজ করে তারা আপনাকে যেমন সম্মান করে তেমনি ভয়ও করে।






কঠিন আমার সঙ্গে কাজ করা। অবশ্য আগের চেয়ে অনেক ইজি এখন। আগে আমি খুবই কঠিন ছিলাম। মুড টেম্পারমেন্ট খুব সুয়িং করে।






আপনি তো মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেন না। এটা নাকি আপনার স্বভাবের সঙ্গে যায় না।






এখন অবশ্য কিছুটা আপস করতে হয়। হয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে আগের মতো আর এফোর্ট দিতে পারি না। একটা জিনিস আমি মনে করি, আমি কখনোই বায়াসড ছিলাম না। গত ২৫ বছর ধরে আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছে, তাদের বেতন-ভাতা উন্নতি-অবনতি নির্ভর করছে আমার ওপর। আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু জোর গলায় বলতে পারি, একজনকে পছন্দ করি বলে তাকে এগিয়ে দিইনি, আরেক জনকে অপছন্দ করি বলে তাকে পিছিয়েও দিইনি।






অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ওমুক ক্রিকেটারকে কোচ পছন্দ করে। কিন্তু আমি ওই সাংবাদিককে বলি, কেন এমন প্রশ্ন করেন। ওই ক্রিকেটার কি কোচের বাসায় বাজার করে দেন? না কোচ তাকে ভালো পারফরম্যান্সের জন্যই পছন্দ করে। আমার পছন্দের মাপকাঠিও এটা। আমার কাজ হলো এখানে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা। এরপর সে তার চেষ্টা, যোগ্যতায় এগিয়ে যাবে। আমি তাকে সাহায্য করব। যে আমার এখানে ৮ দিয়ে যোগ দিল, সে যেন ১৮ নিতে পারে, এ জন্য আমি তার ওপরে ওঠার সিঁড়িটা মসৃণ করে রাখব। কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠার কাজটা তারই। হ্যাঁ, তাকে যদি ল্যাং মেরে কেউ ফেলে দেয় বা দিতে চায় তাহলে তাকেই বিদায় নিতে হবে। এর সঙ্গে আপস করি না।






সাহিত্য লেখলেন না কেন? অনেকেই মনে করেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক হওয়ার সব রসদ আছে আপনার মধ্যে। আপনার ভক্তরা বলে, হুমায়ূন আহমেদের অভাবটাও পূরণ করতে পারতেন আপনি?






এটা হলো পাড়ার বাবলুদের গল্পের মতো। হ্যাভি ট্যালেন্ট ছেলে, পড়লেই ফার্স্ট হতো! হা হা হা। আসলে পৃথিবীতে যে যেটা হয়েছে তার ক্ষমতা ওইটুকুই। বলার সুযোগ নেই যে, অমুক এটা না হলে ওটা হতো। এটা যে হয়নি এর মানেটা হলো তার অক্ষমতা। আমি যেটা হয়েছি সেটুকুই আমার সামর্থ্য, দৌড়। তবে হ্যাঁ, আমারও মনে হয়, আমি হয়ত পারতাম। কিন্তু আমার কাছে লেখকের জীবনটা অনেক কষ্টের মনে হয়। খেলাটা এক ধরনের নেশা। একসময় প্রতিটি মিনিট, ঘণ্টা এবং দিন মজা পেতাম। এখন অনেক সময় একঘেয়ে লাগে। তাছাড়া অনেক বিষয়ও এখন যোগ হয়েছে। পত্রিকার মিটিং সিটিং। ১৪-১৫ জনকে হ্যান্ডল করা। সব মিলে আগের মতো যে সমান এনজয় করি, তা নয়। তারপরও মাঝেমধ্যে সাহিত্য লেখার ঝোঁক যে চাপে না, তা নয়। আমার এডিটর তো প্রায়ই বলেন লিখতে। একটু ভয় আছে, লোকে মনে করে অনেক ভালো লিখব। এই ধারণা ভেঙে দেওয়ার দরকার কী? আর দ্বিতীয় ব্যাপার হলো, কিছু আলস্য। তাছাড়া লেখকের জীবন অনেক কষ্টের। খেলার ভেতর আমি বড় দুই একটা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, বুঝেছি। লেখালেখি একটা ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। সংসার, অন্যান্য কাজ, জীবন তুচ্ছ হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো সাহিত্য প্ল্যান করে হয় না। যদি হতো অটোমেটিক্যালি হয়ে যেত।






আগামীকাল দ্বিতীয় পর্ব : সালাউদ্দিনের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে গেছে






# ডিএইচ/এমএইচ