logo ০৪ এপ্রিল ২০২৫
একান্ত সাক্ষাৎকারে আ জ ম নাছির উদ্দিন
চট্টগ্রামকে স্বপ্নের মেগাসিটি করা হবে
১৯ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:২৯:৩০
image


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, চট্টগ্রামকে স্বপ্নের ‘মেগাসিটি’ করে গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যেই আমি মেয়র প্রার্থী হয়েছি। ভোটের মাধ্যমে মেয়র হলে মেগাসিটির প্রথম ধাপ জলাবদ্ধতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও সর্বোপরি ডিজিটাইজড ব্যবস্থার আওতায় পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা হবে। এ জন্য নগরীর নদী-নালা খাল সংরক্ষণ ও পাহাড় কাটা বন্ধ করা, সৌন্দর্যহানিকর অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক লীলাভূমির অপরূপ সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনতে হবে। যা মেগাসিটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে রয়েছে।

শনিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লাস্থ ব্যক্তিগত কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. ইব্রাহিম খলিল আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাৎকার পাঠকের জন্য তুলে ধরে হল।

ঢাকাটাইমস: মেয়র প্রার্থী হয়ে কেমন বোধ করছেন আপনি ?

আ জ ম নাছির উদ্দিন: স্বাচ্ছন্দবোধ করছি এ জন্য যে, জনগণের অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সহযোগিতা পাচ্ছি। আর ভয় পাচ্ছি এ জন্য যে, জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান আমি কী দিয়ে দিব। জনগণের ভালোবাসার ঋণে আমি ঋণী হয়ে গেছি।

তিনি বলেন, মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগে থেকেই আমি অনেক বড় পরিসরে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এর আগে ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ স¤পাদক ছিলাম। ২০১৩ সালে সাধারণ সদস্য থেকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। যেখানে আমি প্রশংসিত হয়েছি।

ঢাকাটাইমস: মেয়র হওয়ার পর আপনার ভুমিকা কী হতে পারে এবং আপনার প্রথম উদ্যোগ কী হবে ?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : মেয়র হওয়ার পর নিজেকে শাসক বা নগর পিতা নয়, সেবক মনে করেই দায়িত্ব পালন করব। আর শুরুতেই চট্টগ্রামকে আমি স্বপ্নের ‘মেগাসিটি’ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিব। এক্ষেত্রে সিটি গভর্নমেন্ট করে শহরের সব সরকারি-আধা সরকারি ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, জনসমর্থন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে সর্বাগ্রে শহরের পাহাড়, নদী, খাল-নালা রক্ষা ও পুনরুদ্ধার, পাহাড় কাটা বন্ধ করা, অবৈধ এবং সৌন্দর্যহানিকর বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক লীলাভূমির সেই অপরূপ সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা হবে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে অতীতে জলাবদ্ধতা ছিল না। অবহেলার কারণে তা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। নগরীর এই সমস্যা নিরসনযোগ্য। একটু চেষ্টা করলেই জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব। খাল ও নালা ভরাট এবং বেদখলের কারণেই এই সমস্যার উদ্ভব ঘটেছে।

তাছাড়া পাহাড় কাটার ফলে মাটি এসে খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই জনদুর্ভোগ থেকে নাগরিকদের মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই খাল-নালা উদ্ধার করতে হবে। পাহাড়ের মাটি ক্ষয় রোধ করতে হবে। মেয়র নির্বাচিত হলে এই কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

ঢাকাটাইমস: পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন কিভাবে?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : প্রথমেই পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ পাহাড় না কেটেও এর যথাযথ ব্যবহার করা যায়। সঠিক পাহাড় ব্যবস্থাপনা করা হলে মাটি ক্ষয় অনেকখানি কমে যাবে। তাতে খাল-নালা সহজে ভরাট হবে না। তাছাড়া ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নতুন খাল খনন করা হবে।

ঢাকাটাইমস: নাগরিক সুবিধার মধ্যে আরেকটি খাত হল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। যে সমস্যায় প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে নগরবাসী। এই বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : নগরীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশনের আলাদা একটি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগকে কাজে লাগালে নগরী আর অপরিচ্ছন্ন থাকে না। কিন্তু বর্তমানে নগরীতে আবর্জনার কারণেই গন্ধ দূষণসহ নানাভাবে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাছাড়া জলাবদ্ধতার জন্য অপরিচ্ছন্নতাও কম দায়ী নয়। ডাস্টবিন উপচে ময়লা আবর্জনা খাল-নালায় পড়ে তা ভরাট হয়ে যায়। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই পরিচ্ছন্ন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওই বিভাগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে ময়লা-আবর্জনা চোখে দেখে না সাধারণ মানুষ। ঘুম থেকে মানুষ জেগে উঠার আগেই নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়ে যায়। ফলে দুর্গন্ধ কী জিনিস মানুষের নাকে লাগে না। মেয়র হলে সেই ব্যবস্থা চালু করব আমি। ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ কী জিনিস চট্টগ্রামের মানুষও ভুলে যাবে।

ঢাকাটাইমস: নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ সর্বত্র সৌন্দর্যহানিকর বিলবোর্ডে ছেঁয়ে গেছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : বিলবোর্ড পৃথিবীর যে কোন নগর ও শহরে আছে। তবে তা আয় ও সৌন্দর্যম-িত। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও যদি মনে করে বিলবোর্ড থেকে আয় প্রয়োজন তাহলে তা নীতিমালা অনুসারেই থাকবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রামের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এমন কোন বিলবোর্ড থাকার পক্ষে আমি নই।

তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখেছি নগরীতে এক জায়গায় অনুমোদন নিয়ে অন্য জায়গায় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। আবার ছোট আকারের অনুমোদন নিয়ে বড় আকারের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে যে কোন বাধাই অতিক্রম করব। তবে এর জন্য জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। জনগণ যদি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তবেই এই সুযোগ পাব।

ঢাকাটাইমস: মেগাসিটি গড়ার ক্ষেত্রে সুনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা অন্যতম। এ বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : সুনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা মানেই আমি বুঝি নিরাপদ যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা। এ জন্য নগরীর সড়ক-মহাসড়কগুলোকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হবে। সড়কে চলবে অত্যাধুনিক যানবাহন। যেগুলোতে ওয়াই-ফাইসহ ডিজিটাল সুবিধা থাকবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হবে ট্রাফিক ব্যবস্থা। যারমধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর একটি ডিজিটাল নগরীতে পরিণত হবে।   

ঢাকাটাইমস: ডিজিটাল নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখতে পারেন আপনি ?

আ জ ম নাছির উদ্দিন: ডিজিটাল নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মহানগরের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে প্রথমে ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনা হবে। এরমধ্য দিয়ে নগরবাসী দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা পাবে। তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভুমিকা রাখবে ডিজিটাল নগরী।

ঢাকাটাইমস: অতীতে দেখা গেছে ভোট এলেই অনেকেই অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদী ও পাহাড় রক্ষা করে প্রাচ্যের রাণীর সেই রূপ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি আমরা বার বার শুনেছি। আপনি কিভাবে তা করবেন ?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : আন্তরিকতা, সততা এবং দক্ষতা থাকলে কোন কিছুই অসাধ্য নয়। অতীতে আমি ¯েপার্টস থেকে শুরু করে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি- যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছি, সব জায়গায় সফল হয়েছি। স্টেডিয়ামের চেহারা পাল্টে দিয়েছি। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিরও অনেক উন্নয়ন ঘটিয়েছি। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পেলেও সততা এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারব। সিটি কর্পোরেশনেও সফল হব ইনশাল্লাহ।

ঢাকাটাইমস: আপনার দল থেকে আরো কয়েকজন দলীয় সমর্থন চেয়েছিলেন। এমনকি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসার সামনে অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। সেই বিভাজন কাটিয়ে কী আপনি মেয়র নির্বাচিত হতে পারবেন বলে মনে করেন ?

আ জ ম নাছির উদ্দিন : দলের মধ্যে এখন কোন বিভাজন নেই। তবে একথা সত্যি দল থেকে বেশ কয়েকজন সমর্থন চেয়েছেন। নেত্রী আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। যারা সমর্থন পাননি তাদের মধ্যে একটু ক্ষোভ থাকতেই পারে। আবার তাদেরকে যেসব নেতাকর্মী আন্তরিকভাবে ভালবাসেন তারাও একটু কষ্ট পাবেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে তা এখন কেটে গেছে। উত্তর-দক্ষিণ ও নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে প্রচারণা শুরু করেছেন। তাদের সহযোগিতায় ভোটাররা চাইলে আমি অবশ্যই মেয়র নির্বাচিত হব। ইনশাল্লাহ আগামি ২৮ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষে আপনারা এই সুখবরটি পেয়ে যাবেন।