‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান রেখেই নির্বাচন হতে পারে। বিএনপিও এই প্রস্তাব মেনে নেবে। তবে নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনাকে প্রমাণ করতে হবে তিনি নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ এভাবেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে নিজের মত তুলে ধরেন। সোমবার বিকেলে ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় নিজ বাসভবনে বসে তিনি দেশে চলমান রাজনীতি, বিএনপি আন্দোলন, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ, সেনা হস্তক্ষেপ চেয়ে মাহমুদুর রহমান মান্নার ফোনালাপ নানা বিষয়ে কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। দলীয় লোক ও ক্যাডার দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না। যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন এবং সহযোগিতা করবেন তাদেরও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। দেশে এখনও অনেক নিরপেক্ষ লোক আছে। এদের খুঁজে বের করতে হবে।’
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাবিবুল্লাহ ফাহাদ। সঙ্গে ছিলেন ইনামুল হাসান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট তো নতুন নয়, অতীতেও ছিল। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
স্বাধীন হওয়ার আগের অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাবে, আমরা শাসিত হয়েছিল, পদদলিত হয়েছি, বঞ্চিত হয়েছি এবং আত্মরক্ষার জন্য মিথ্যা কথা বলেছি। আর স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৩ বছরে এটা বোঝা গেছে যে, আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের নিজেদের শাসন করার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছি।
কী ধরনের ব্যর্থতার কথা বলছেন?
এটা অনেক শক্ত কথা। কিন্তু এই শক্ত কথা এই বয়সে আমি না বললে কে বলবে? আমরা একসঙ্গে চলতে ব্যর্থ হয়েছি। নিজেরা নিজেদের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা বোধ করি। যখনই বিদেশ থেকে কোনো রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার আসেন তাদের সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলতে আনন্দ পাই। অথচ এদের বেশির ভাগই আমাদের দেশে যুগ্মসচিব বা সর্বোচ্চ সচিব পদ মর্যাদার।
বার বার এই সংকটের কারণ কী?
এখন পর্যন্ত আমাদের নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করার পরিপূর্ণতা আসেনি। রাজনীতিটা হচ্ছে সুনীতি সমৃদ্ধ, সুরুচিপূর্ণ। যুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমের সমষ্টি। যুক্তিভিত্তিক বিষয়ে কথা বলতে তো সমস্যা নেই। যা হবে যুক্তিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে হবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে?
এখন যা হচ্ছে তা গোটা জাতিকে বিষিয়ে তুলেছে। একজন প্রবীণ শিক্ষক হিসেবে দেখছি, আমার ছোট ছোট বাচ্চাদের পরীক্ষা বিনষ্ট হচ্ছে। ঠিকভাবে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ তারা পাচ্ছে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদ্যালয়গুলোর পড়াশোনার ক্ষেত্র আর নেই।
রাজনৈতিক এই সমস্যা কেন তৈরি হল?
এই রাজনৈতিক সমস্যার জন্ম হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। এই নির্বাচন যে সঠিক হয়নি এটা আপনি যেমন জানেন, আমিও জানি এবং যারা জয়ী হয়েছেন তারাও জানেন।
কিন্তু সংবিধান মেনেই তো সরকার গঠন হয়েছে?
নির্বাচন সঠিক না হলে শাসন করার ভিত্তিটা কী? যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার ভিত্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যাদের মারিয়ে আমরা চলাফেরা করি। এরাই কিন্তু ক্ষমতার মালিক। ক্ষমতার মালিকদের সম্মতি যতক্ষণ না পাচ্ছি ততক্ষণ আমি কখনও শাসন করতে পারি না।
তাহলে যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তারা দেশের শাসনে আইনগতভাবে অযোগ্য বলছেন?
এখন দুই শ্রেণির ব্যক্তি সংসদে আছেন। এদের মধ্যে ১৫৩ জন নিজের ভোটটাও পাননি। আমার ধারণা আন্দোলন আজকে যারা করছে তার আগে তাদেরই আন্দোলন করা উচিত ছিল না? তাদের বলা উচিত ছিল শাসন করার যোগ্যতা অর্জন করার জন্য আমাদের নির্বাচিত হওয়া দরকার।
বাকি আসনগুলোতে তো নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে...
বাকি একশ ১৪৭ জনের ব্যাপারে বলা হয়, পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ, কেউ বলে ৩০ শতাংশ আবার নির্বাচন কমিশন বলে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই হিসাব ঠিক ধরলেও তো ৬০ ভাগ লোক নির্বাচনের বাইরে রয়ে যায়। অর্থাৎ কোনো দিক থেকেই তারা শাসন করার যোগ্য নয়।
তাহলে এখন কী করা প্রয়োজন?
বর্তমান সরকার যে শাসনের যোগ্য নয় এই ছোট্ট সত্যটুকু তারাও জানেন। তারপরও কেন একটা সমাধানে যেতে পারছি না? কেন একটা ছোট্ট নির্বাচন করে নিতে পারছি না? জেদ করে গণতন্ত্র চালানো যায় না। আসলে আমরা সম্ভবত স্বাধীনতার যোগ্য নই।
কেন এ কথা বলছেন?
যারা ভাষা আন্দোলন করলো, দেশকে স্বাধীন করলো তাদের স্বপ্ন কী ছিল আর আমরা এখন কী করছি। বড় এই দুটি অর্জনের দিকে তাকিয়ে কি আমরা নিজেদের যোগ্য হতে পারি না? কেন আমাকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে সহায়তা চেয়ে চিঠি লিখতে হলো?
আপনি জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠিতে কী লিখেছিলেন?
২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে আগে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো আসার ফলে আর কিছু না হোক অন্তত তিনি দুই দলকে একসঙ্গে বসাতে পেরেছিলেন। আমার ধারণা ছিল তারানকো আবার আসুক। এবার অন্তত চেষ্টা করে আরেকবার দুই দলকে একসঙ্গে বসাক। ওই চিঠি লেখার কারণেই আমার বিরুদ্ধে মামলা হল।
আপনার চিঠি লেখার পরই কি তারানকোকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয়?
হ্যাঁ। আমার চিঠির পরই ওই নির্দেশনা এসেছে।
এর পর কি জাতিসংঘ থেকে আর কিছু বলা হয়েছে?
না, এর পর আসলে জাতিসংঘ থেকে কিছু বলা হয়নি। ওরা তো ওইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। গিয়ে দেখতে হয়। সেটা অন্য কথা। আসলে ওই পর্যায়গুলো ভদ্র ও সম্মানীয় পর্যায়। তারা যদি একবার কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে নির্দেশনা দিয়ে রাখেন তখন ধরেই নেয়া হয় তাদের নির্দেশনা মানা হবে।
রাজনৈতিক এই সংকট মোকাবিলায় কী করা উচিত?
জাতীয় সমস্যা জাতীয়ভাবে সমাধান হওয়া উচিত। এই সমস্যা সমাধানের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কিছুটা হলেও থাকা উচিত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তো শত্রু না। তাদের প্রতি কিছুটা হলেও শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে এবং উভয়পক্ষকে ছাড় দিয়ে বসে কথা বলে সমাধানে পৌঁছা উচিত।
সরকারের পক্ষ থেকে এখন কী বলার আছে বলে মনে করেন?
তারা যদি এখন নির্বাচন না দিতে পারে তাহলে প্রতিশ্রুতি দিক। বলুক, এখন সম্ভব না, ছয়মাস বা একবছর পর বা নির্দিষ্ট একটা সময় নির্বাচন হবে। তাহলেও তো দেশের অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটবে।
প্রতিশ্রুতি পেলেই বিএনপি আন্দোলন থেকে সরে আসবে বলে মনে করছেন?
এটা নির্ভর করবে সরকারের যোগ্যতার ওপর। দেশ এভাবে রাজনৈতিক সংকটের পথে হাঁটবে জানলে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা কিছুতেই প্রাণ দিতেন না। কিছু না হোক এই দুটি বড় অর্জনের দিকে তাকিয়ে, তাদের আত্মত্যাগের দিতে তাকিয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে দুই দলের একসঙ্গে বসা উচিত। সমাধানটা এখানেই হোক।
আপনি বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে নির্বাচন হতে পারে...
হতে পারে। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচন হয় ১৯৯৬ সালে। পৃথিবীব্যাপী সংসদীয় ব্যবস্থায় নিয়ম হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের মতো দু-একটি দেশে আছে। যেমন- নেপাল ও পাকিস্তান।
শেখ হাসিনাকে প্রধান রেখে নির্বাচন হলে কী করতে হবে?
যে ব্যক্তিবর্গ বা যে সংগঠনগুলো নির্বাচন পরিচালনা করবেন তাদের অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। দলীয় লোক ও ক্যাডার দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না।
বিএনপি কি এটা মেনে নেবে?
এই শর্তগুলো থাকলে অবশ্যই বিএনপি তা মেনে নেবে।
কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে চাইলে কি শেখ হাসিনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণ দিতে পারবেন?
এটা সংস্কৃতি নয় অপসংস্কৃতি। এই মানসিক পরিবর্তনটা না এলে নির্বাচনের কথা বলা ঠিক হবে না। এটা মেনে নেবে নাই বা কেন? নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করা হয় তাহলে অবশ্যই মেনে নেবে। নির্বাচনের যাবতীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ লোকদের নিয়োগ করতে হবে।
সেক্ষেত্রে যে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠবে না, এটা নিশ্চিত করে বলছেন কীভাবে?
বাংলাদেশে কি নিরপেক্ষ লোক নেই? এখনও এদেশের মানুষ খারাপ না। জেদ করে এটা হবে না। দুই পক্ষকেই জেদটা বাদ দিতে হবে। জেদের সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক নেই।
সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আপনার দেখা বা কথা হয়েছে?
না, এর মধ্যে হয়নি। ৬ জানুয়ারির আগে হয়েছে।
তখন কি আপনি শেখ হাসিনাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান রেখে নির্বাচন করার ধারণাটি বেগম জিয়াকে দিয়েছিলেন?
না সরাসরি এই প্রস্তাব তুলে ধরিনি। কারণ আলোচনার সুযোগই হয়নি।
তাহলে এটা নিয়ে কীভাবে আলোচনা হতে পারে?
নির্বাচন হলে তার আগে বহু আলোচনা-পর্যালোচনা হবে। যুক্তিসঙ্গত আলোচনা হলে কেন গ্রহণ করবো না? ভারত, ব্রিটেনের দিকে তাকিয়েও তো এভাবে নির্বাচন হতে পারে। সংসদ ভেঙে না দিয়ে কোথাও কোনো নির্বাচন হয়? জোর করে করলেই হবে না। সংবিধানে জোর করে লিখিয়ে নিলে হবে না।
নির্বাচন ঘোষণার পর অসুবিধা হবে না..
যখন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে ছয়মাস বা এক বছর পর নির্বাচন হবে, তখন সারাদেশে আনন্দের আন্দোলন শুরু হবে। নির্বাচন নিয়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল হবে। তর্ক-বিতর্ক হবে বিভিন্নভাবে কথাবার্তা হবে। অসুবিধা হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিএনপির হরতাল-অবরোধ কি ওই অর্থে পালন হচ্ছে বা কাজে আসছে?
নিজেদের স্বাধীন দেশে এভাবে আন্দোলন হয় না। পাকিস্তানবিরোধী যে আন্দোলন হয়েছে তার মতো হবে না। তখনকার আন্দোলনের সঙ্গে এখনকার আন্দোলনের তফাতটা হচ্ছে এখন যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা আমাদের লোক। আর তখন পাকিস্তানিরা কী করে না করে এটা তাদের ব্যাপার ছিল।
আন্দোলনের শেষ কথায়?
আন্দোলন শুরু হয়েছে। এখন একটা কথা বলে তো তাদের থামাতে হবে। সমাধানের একটা পথ তো খুঁজে বের করতে হবে। আপনার ছেলে রাগ করেছে। এখন আপনি তাকে একটা পুতুল কিনে দেয়ার কথা বলেও তো রাগ ভাঙাতে পারেন।
ভাল হোক মন্দ হোক আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বাইরে তো দেশের রাজনীতির কথা চিন্তা করা যায় না...
এই শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই দুটি দল প্রভাব বিস্তার করবে। একটা দল আরেকটি দলকে নিঃশেষ করতে পারবে না। তবে টিকে থাকতে হলে দুই দলের সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ঠিক রাখতে হবে।
নিজেদের সক্ষমতা নেই বলেই কি বারবার বহিঃবিশ্বের হস্তক্ষেপ আসে?
ঠিক তাই। তবে অমুক দেশ আমার পাশে আছে, তাদের সমর্থন পেয়ে কেউ জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকবে এই চিন্তা করা যাবে না।
সংলাপ তো এর আগেও হয়েছে দুই দলের মধ্যে। কিন্তু কোনো সমাধান তো আসেনি?
সংলাপ তো শুধু সংলাপ নয়, আলোচনা। সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে আলোচনা। এই মানসিকতা রাখতে হবে। শুধু বসার জন্য বসা নয়। জাতীয় সংকটের মুখে অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন দিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে আফ্রিকার মতো অকার্যকর রাষ্ট্রের পথে হাঁটবে দেশ।
সংলাপটা কী পর্যায়ে হওয়া উচিত?
সংলাপ হলে দুই নেত্রীর মধ্যেই হতে হবে। এর নেতৃত্ব দেবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তার একটা সুবিধা আছে যে, তার রাজনৈতিক ক্ষমতা কম। তবে দেশের অভিভাবক হিসেবে তিনি দুই দলকে নিয়ে বসতে পারেন। এর আগে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সার্চ কমিটি ঘটনের সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেব বলেছিলেন। বেগম জিয়া সেখানে ছিলেন।
২০০৪-০৫ সালে আওয়ামী লীগ যখন এ ধরনের আন্দোলনে গিয়েছিল তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আপনি তাকে কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন?
আমি উপদেষ্টা কোনো সময়ই ছিলাম। আমি বেগম জিয়ার উপদেষ্টা না। গণমাধ্যমে এটা লেখা হয়। মামলাও করা হয়েছে সেখানেও আমাকে উপদেষ্টা বলা হয়েছে। আমি বিএনপির এক পয়সারও সদস্য না। দরকার হলে মাঝেমাঝে বেগম জিয়া আমাকে পরামর্শের জন্য ডাকেন। এ পর্যন্তই।
যদি রাষ্ট্রপতি না পারেন সংলাপ করতে তখন কী হবে?
তখন জাতিসংঘের মহাসচিবকেই ডাকার পথ বাকি থাকে। তিনি তো বাইরের লোক নন। তাকে বিদেশি বলবো না। কারণ আমরা তো জাতিসংঘের সদস্য। তবে আমি একজন আত্মসম্মানী নাগরিক হিসেবে বলবো মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে প্রথমে চেষ্টা করতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার জন্য বিএনপিকে প্রয়োজনে সংঘাতের পরামর্শ দিয়েছেন। সেনা হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন?
যদি সেনা হস্তক্ষেপের কথা বলা হয় তাহলে এটা ঠিক হয়নি। এটা মেনে নেয়ার মতো না। তাছাড়া লাশের রাজনীতিও কাম্য নয়। আমি একজন শিক্ষক হয়ে ছাত্রের মৃত্যু কামনা করতে পারি না। মান্নাকেও আমি চিনি সে আমার ছাত্র ছিল। কিন্তু কেন সে এসব বলেছে আমার মাথায় আসছে না।