logo ০৪ এপ্রিল ২০২৫
সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:৪৪:২৯
image


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল ফার্মেসি এন্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত বলেন, সংলাপ হবে কিনা তা নির্ভর করে সরকরের উপর। কারণ বর্তমান সমস্যার সৃষ্টি করেছে সরকার। আর তা সমাধানের দায়িত্বও সরকারের। আর তাই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই।

তিনি বলেন, বিএনপির সংলাপ করার মনোভাব আছে। বিএনপিকে যদি আজকেই সংলাপের আহ্বান জানানো হয়, তবে কালকেই বিএনপি হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করে নিবে বলে আমি মনে করি। আর এ সংলাপ হতে হবে অবশ্যই সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য। দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আবু রাকিবের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. আবুল হাসনাত

হরতাল-অবরোধে ঢাবিতে কী রকম প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন?

ঢাবিতে কিছু কিছু বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তবে বেশির ভাগ বিভাগেই ক্লাস হচ্ছে না। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে পুরো দেশ আজ হুমকির মুখে। বিশ্ববিদ্যালয় দেশেরই একটা অংশ, সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে পুরো দেশেই এর প্রভাব ফেলছে।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন সংলাপ হতে পারে কি না?

সংলাপ হবে কিনা তা নির্ভর করছে সরকরের উপর। কারণ বর্তমান সমস্যার সৃষ্টি করেছে সরকার। আর সমাধানের দায়িত্বও সরকারের। আর তাই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হলে সরকারকেই নিতে হবে।

অনেকেই মনে করছে খালেদা জিয়ার বাসা থেকে শেখ হাসিনা ফিরে আসায় বিএনপির সংলাপ না করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

বিএনপির সংলাপ করার মনোভাব আছে। বিএনপিকে যদি আজকেই সংলাপের আহ্বান জানানো হয়, তবে কালকেই বিএনপি হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করবে বলে আমি মনে করি। আর এ সংলাপ হতে হবে অবশ্যই সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য।

বর্তমান সরকারের সঙ্গে অন্যান্য দেশের কিরূপ সম্পর্ক বলে মনে করেন?

ভারত ছাড়া বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কোন দেশই বৈধতা দেয়নি। ঐ নির্বাচনটি দেশের জন্য একটি কালিমা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর  এই অবৈধ সরকারের সঙ্গে শুধু ভারত ছাড়া অন্য কোন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সাদা দলের যে ভরাডুবি তা থেকে কি জাতীয় নির্বাচনের অবস্থা অনুমান করা যায়?

না, কখনোই নয়। এখানে যেটা হয়েছে তা হল শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ হয়েছে। আর নির্বাচনও দলীয় নির্বাচন হয়েছে।

তাহলে ঢাবিতে কি দলীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে?

শিক্ষক নিয়োগে মেধার কোন মূল্যায়ন করা হয় না। অনেক বিভাগেই প্রথম সারি থেকে বাদ দিয়ে পেছনের সারি থেকে দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আর এতে শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে অগ্রসর হচ্ছে।

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ঢাবিতে ধর্মঘট চলছে। সেটাকে কিভাবে দেখেন?

ভিসি স্যারের পদত্যাগের ব্যাপারে আমরা কিছু বলিনি। তবে ছাত্রদলের ধর্মঘটকে আমরা নৈতিকভাবে সমর্থন করি। কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের হলে থাকার অধিকার আছে। কিন্তু তারা তো হলে থাকতেই পারছে না। বরং ক্যম্পাসের আশেপাশেও আসতে পারছে না। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে মিছিল করার সুযোগ পেয়েছে।

চলমান আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হলে কি করবে?

আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সরকার সব দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বিএনপি আন্দোলন করবে- এটাই স্বাভাবিক। আবারও বলব, বর্তমান সংকট তৈরি করেছে সরকার, আর তা নিরসনের দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই।