logo ০৪ এপ্রিল ২০২৫
উদ্যোক্তাদের ঐক্যের বিকল্প নেই: গিয়াস উদ্দীন
২৭ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:১৩:৩০
image


তিনি একজন উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা। শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বর্তমানে মো. গিয়াস উদ্দীন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন। স্বপ্ন দেখেন সম্ভাবনাময় তরুণদের নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর। নবীন উদ্যোক্তাদের সংগঠন জুনিয়র চেম্বার চিটাগাংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট। পালন করছেন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্ব। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শিহাব উদ্দীন

ব্যবসায়ের হাতেখড়ি কিভাবে?

মূলত ব্যবসায়ী পরিবারেই আমার জন্ম। আমার বাবা ছিলেন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। আমার বাবা মরহুম হাজী মুহাম্মদ ইসলাম চট্টগ্রামের আধুনিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মধুবনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। বাবা ও চাচা উভয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৬ সালে মধুবনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে বাবা নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামে ‘মিষ্টি মেলা’ নামে আরেকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালে আমিও অন্যতম আরেকটি বৃহৎ খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলির আংশিক মালিকানা নিয়ে এর পরিচালক নিযুক্ত হই। এর পাশাপাশি আমি বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত ব্যবসায়ে জড়িত হই।

আপনাদের প্রতিষ্ঠান ফুলকলি সম্পর্কে বলুন...

২০০২ সালে ফুলকলির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক সফলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এ প্রতিষ্ঠানের অনেক আউটলেট রয়েছে। আগামী বছর থেকে ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে আউটলেট পরিচালনার কাজ চলবে। তাছাড়া আমাদের পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদিত সুইটস, বিস্কিট ও কনফেকশনারী পণ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

দেশে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে, আপনার বক্তব্য কি?

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠিত উৎপাদকদের সুনাম নষ্ট করছে। প্রশাসন যদি আরো তৎপর হয় এবং নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখে তাহলে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ের পাশাপাশি আর কি করছেন?

আপনারা জানেন হয়ত, আমার বাবাও ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী, সবসময়ই তিনি সমাজে পিছিয়েপড়া বঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করার জন্য চেষ্টা করতেন। মূলত তাঁর কাছ থেকেই আমি সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই। আমিও ব্যবসায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করছি। বর্তমানে চট্টগ্রামের তরুণ ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখছি। চট্টগ্রামের আরেক প্রতিষ্ঠিত তরুণ উদ্যোক্তা বড়তাকিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোরশেদ এলিটের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত তরুণ উদ্যোক্তাদের সংগঠন জুনিয়র চেম্বার চিটাগাংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছি। মূলত তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছে জুনিয়র চেম্বার। আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে আগ্রহী করে তুলছি। যাতে তারা শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থী না হয়ে শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের  ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। তাছাড়া জুনিয়র চেম্বার বিভিন্ন সেবামূলক কাজও করছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সহযোগিতা কতটুকু প্রয়োজন বলে মনে করেন?

আপনারা জানেন, একজন নবীন উদ্যোক্তা যখন নতুন কোনো শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে চান তখন তাকে নানা প্রশাসনিক ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ঋণ দিলেও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ দিতে চায় না। এ ব্যাপারে সরকারের বিশেষ কোনো ব্যবস্থা থাকলে  অনেক নতুন উদ্যোক্তা শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসত। এছাড়াও আমি মনে করি উদ্যোক্তাদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা যেকোনো দাবি আদায়ে অগ্রসর হতে পারেন।

সামনে চসিক নির্বাচন, আপনার প্রত্যাশা কি?

দেখুন, চট্টগ্রাম হচ্ছে বাণিজ্যিক রাজধানী। দেশের আমদানি-রপ্তানির অন্যতম প্রবেশপথ হচ্ছে এই বন্দরনগরী। অতীতেও আমরা মেয়রদের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা পাইনি। আমরা মনে করি নগর পরিকল্পনায় তরুণ ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা উচিত। আগামীতে চট্টগ্রামের নাগরিকরা এমন একজন মেয়র নির্বাচিত করবেন যিনি নগরবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবেন এই প্রত্যাশা রাখি।

ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে কি বলবেন?

উদ্যোক্তাদের বিনয়ী হওয়ার বিকল্প নেই। ব্যবসায় জগতে যে যত বেশি বিনয়ী হবে সে তত বেশি সাফল্য পাবে। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মানসিকতা লালন করতে হবে। পৃথিবীতে যারা আইকন হয়েছেন, তাদের কোনো না কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। জীবনে হতাশ হলে চলবে না। আত্মবিশ্বাস নিয়ে লক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আর ঝুঁকি নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবেই।- সাপ্তাহিক এই সময়-এর সৌজন্যে।