logo ০৪ এপ্রিল ২০২৫
টাঙ্গাইলে ইউপি নির্বাচন
তবু পাল্লায় নৌকা এগিয়ে
রেজাউল করিম, ঢাকাটাইমস
০৫ জুন, ২০১৬ ১৩:১৯:০৬
image




টাঙ্গাইল: সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ছয় ধাপে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার ৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।



প্রথম ধাপ থেকে ষষ্ঠ ধাপ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভেতর ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে অনেকটায় বেকায়দায় ছিল আওয়ামী লীগে মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।



নির্বাচনে অধিকাংশ ধাপেই দেখা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় অনেককেই দল থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে। এর পরও থেমে থাকেনি বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রচার প্রচারণাও করেছে যথারীতি। দলের ভেতরে অধিকাংশ ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মাঝিরা জয় নিয়ে শঙ্কায় ছিল। এরপরও মোট ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বেশিরভাগ ইউনিয়নে জয়ী হয়েছে।



ষষ্ঠ ধাপ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ পেয়েছে ৪৮টি, বিএনপি পেয়েছে ১৫ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে ২৩ ইউনিয়নে জয়।



প্রথম ধাপ : প্রথম ধাপে জেলার একমাত্র উপজেলা নাগরপুরের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ ৪ জন, বিএনপি ৪ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন জয় লাভ করেছে।



দ্বিতীয় ধাপ : দ্বিতীয় ধাপে জেলার গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছে। এ ধাপে আওয়ামী লীগের জয় জয়কার হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে গোপালপুরের ৭ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫টি ও ২টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছে।



একই ধাপে ভুঞাপুর উপজলার আওয়ামী লীগ ৫, বিএনপি ১টিতে জয়ী হয়েছে।



চতুর্থ ধাপ : চতুর্থ ধাপে জেলার দেলদুয়ার ও মধুপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ২, বিএনপি ২ এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। এ ধাপে দেলদুয়ার উপজেলার ৮ ইউনয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২ বিএনপি ২ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪টি ইউনিয়নে জয় লাভ করেছে।



এদিকে একই ধাপে মধুপুরের ৩ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় লাভ করেছে।



তৃতীয় ধাপ : তৃতীয় ধাপে জেলার ধনবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে আওয়ামী লীগ ও ৩টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছেন।



পঞ্চম ধাপ : পঞ্চমধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলার মির্জাপুর, বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১০টি, বিএনপি ৩ ও ৫টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছে। মির্জাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ ৩টি বিএনপি ২টি ও ৩টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছে। বাসাইল উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২, বিএনপি ১ ও ১টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছে। একই ধাপে সখীপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫টি ও ১টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছে।



ষষ্ঠ ও শেষ ধাপ : ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলার টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ২৬টি ইউপি নির্বাচনে  ১৫টিতে আওয়ামী লীগ, ৫টিতে বিএনপি এবং ৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।



নির্বাচনের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জোয়াহেরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, একটি দেশের আইন প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হচ্ছে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। বর্তমান সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদ্রোহী জয়ী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, এরা পরীক্ষিত নেতা। জয়ীও হয়েছেন। অনেকে অনুতপ্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এদের কাউকে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।



তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা ঢাকাটাইমসকে জানান, কেন্দ্র দখল, অবাধে সিল ও সহিংসতার কারণে বিএনপি মাত্র ১৫টি ইউনিয়নে জয় লাভ করেছে। এটা সারাদেশের সহিংস নির্বাচনের ধারাবাহিকতা মাত্র। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হতো।



(ঢাকাটাইমস/৫ জুন/প্রতিনিধি/এলএ)