logo ০৬ এপ্রিল ২০২৫
দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে ঘৃণা করতে হবে: সাহাবুদ্দিন
০২ জুন, ২০১৫ ০১:৩৪:২১
image


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে ঘৃণা করতে হবে। তাদের হেয়  করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। এই দায়িত্ব সমাজের মানুষেরই। সোমবার ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক কমিশনার বলেন, ‘দুর্নীতি ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই অঙ্গীকার থাকতে হবে, দুর্নীতি কীভাবে নির্মূল করা যায়। জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বাধীন কমিশন দুদক আত্মনিয়োগ করলে দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যাবে। এ জন্য যা যা করা দরকার  আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- হাবিবুল্লাহ ফাহাদ

দুদকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করেছেন। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে?

দুদক নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত একটি সংস্থা। যেটা আইন দিয়ে বিধিবদ্ধ। কোনো দল, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ব্যবসায়ী এগুলো মুখ্য বিষয় নয়। দুর্নীতি এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিই মুখ্য বিষয়, তিনি যেই হোন না কেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এজন্যই দুদকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে বলে মনে করি। তবে দুদক নিয়ে অপপ্রচারও রয়েছে।

কী ধরনের অপপ্রচারের কথা বলছেন?

এখন যদি বলা হয় ক্ষমতাসীন দল দিয়ে প্রভাবিত হয়ে দুদক বিরোধী দলের প্রতি কঠোর হয়েছে। বিরোধী দলকে দমন করা হচ্ছে দুদককে ব্যবহার করেÑ এটা উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা হবে। তবে ভাবমূর্তির বিষয়টি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার।

দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি কী?

কেউ সমালোচনা করেন। কেউ বলেন ভালো করছেন। কেউ বলেন দুদক প্রভাবিত হয়ে কাজ করছে। যে যেভাবে এটা গ্রহণ করে সেটা তার ব্যাপার। আমরা মনে করি জনস্বার্থে যা করছি তা ভালোই করছি।

ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের দুর্নীতিও অনুসন্ধান করেছে দুদক...

মূলত আমাদের কাছে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দল বলতে কিছু নেই। এই দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করেছি। দলমত নির্বিশেষে যার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনের দায়বদ্ধতা থেকে যেটা করার সেটাই করেছি। কেউ মুক্তি পেয়েছেন, কারো বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, কেউ বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এটা তো আমাদের অব্যাহত প্রক্রিয়া।

সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হলে কী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে ঘৃণা করতে হবে। সামাজিকভাবে তাদের হেয়  করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার বিকল্প নেই। এই দায়িত্ব সমাজের মানুষেরই।

দুর্নীতি প্রতিরোধে জাতিসংঘের একটি সনদ রয়েছে...

ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট করাপশনÑ (আনকাক)। এটা জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ। এই সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদের মূল কাজ হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ।

সনদ অনুযায়ী দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় কী?

প্রতিরোধ করতে গেলে জনগণকে সচেতন করতে হবে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। আইন ও প্রশাসনের সংস্কার করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। সম্বিলিত প্রচেষ্টায় এই সব বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তো আমরা কাজ করছি।

সারাদেশে দুদকের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয় কীভাবে?

সারাদেশের ৬৪ জেলায় আমাদের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি আছে। প্রায় ২২ হাজার স্কুলে আছে সততা সংঘ। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় জনগণকে সচেতন করছে। উদ্বুদ্ধ করছে তারা যেন দুর্নীতির ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারে।

দুর্নীতির ভয়াবহতা কী?

দুর্নীতি হলে পরিবারের কী ক্ষতি হয়, সমাজের কী ক্ষতি হয় সর্বোপরি রাষ্ট্রের কী ক্ষতি হয় সেইগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা যদি আমরা বুঝতে পারি তাহলে একটা সময় বুঝতে পারবো দুর্নীতি সমাজের শত্রু। যেটাকে ঘৃণা করতে হবে। উচ্ছেদ করতে হবে।

দুর্নীতি ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে কী করতে হবে?

দুর্নীতি ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই অঙ্গীকার থাকতে হবে, দুর্নীতিকে কীভাবে নির্মূল করা যায়। মূলত নির্মূলটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্মূল করা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে আমিও দ্বিধা প্রকাশ করছি।

তাহলে কী করা যেতে পারে?

জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বাধীন কমিশন দুদক আত্মনিয়োগ করলে দুর্নীতিকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যাবে। এ জন্য যা যা করা দরকার  আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

(ঢাকাটাইমস/ ২ জুন/ এইচএফ/ঘ.)